রাজবাড়ীর সোনালি অতীত, মধুর স্মৃতি এবং আবেগময় মুহূর্তগুলি যা আমাদের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান
"রাজবাড়ী স্মৃতি বলতে মূলত পদ্মাপাড়ের জীবন, "রেলের শহর" হিসেবে এর বিকাশ, বিখ্যাত চমচম মিষ্টি এবং মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলোকে বোঝায়, যেখানে প্রাচীন রাজাদের আমলের স্থাপত্য, যেমন—স্নানমঞ্চ, দোলমঞ্চ, জোড় বাংলা মন্দির, নীলকুঠি, এবং মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কমপ্লেক্সের মতো ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো এখানকার অতীত ঐতিহ্য বহন করে চলছে।"
রাজবাড়ীর মানুষের মনের কথা, তাদের অভিজ্ঞতা এবং স্মৃতিকথা
ছোটবেলায় বর্ষার দিনে পদ্মা নদীর তীরে খেলা করার স্মৃতি এখনও মনে পড়ে। নদীর ঢেউয়ের শব্দ, বর্ষার বৃষ্টি আর আমাদের হাসির শব্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে যেত। সেই দিনগুলো ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। পদ্মার ঘাটে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা, মাছ ধরা, আর বন্ধুদের সাথে গল্প করা - এই সব স্মৃতি আজও আমাকে আবেগাপ্লুত করে।
স্কুলের সেই বিশাল খেলার মাঠ, বট গাছের ছায়া, আর টিফিনের সময় বন্ধুদের সাথে আড্ডা - এসব স্মৃতি আজও চোখে ভাসে। আমাদের প্রিয় শিক্ষকদের কথা মনে পড়ে, যারা শুধু পড়াশোনাই নয়, জীবনের অনেক মূল্যবান শিক্ষা দিয়েছেন। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান - প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অবিস্মরণীয়।
রাজবাড়ীর পহেলা বৈশাখ ছিল এক অন্যরকম আনন্দের দিন। সকাল থেকে শুরু হত মেলা, রঙিন পোশাক, পান্তা-ইলিশ খাওয়ার আয়োজন। বাউল গান, পুতুল নাচ, নাগরদোলা - সব মিলিয়ে এক অপূর্ব পরিবেশ তৈরি হত। পুরো শহর যেন এক উৎসবে মেতে উঠত। আমাদের বাংলা সংস্কৃতির এই উৎসব আজও আমার মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
ঈদের আগের রাতে চাঁদ দেখা, সকালে নতুন জামা পরা, আর পরিবারের সবার সাথে ঈদের নামাজে যাওয়া - এসব স্মৃতি হৃদয়ে গেঁথে আছে। গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের সাথে মিলন, সেমাই-পায়েস খাওয়া, আর ছোটদের ঈদি দেওয়ার আনন্দ ছিল অতুলনীয়। পুরো গ্রাম যেন একটি পরিবারের মতো মিলেমিশে ঈদ উদযাপন করত।
রাজবাড়ীর বিভিন্ন সময়ের ছবি যা আমাদের অতীতের কথা বলে